যেভাবে পেলেন ন্যায় বিচার?
ইউনিভার্সিটির ক্লিনারের আইনি লড়াইয়ে জয়,
পেলেন £২৬০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ।
যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাধারণ রাইস কুকারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত গড়ায় আদালত পর্যন্ত। আর সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়ে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেলেন প্রায় £২ লাখ ৬০ হাজার ক্ষতিপূরণ।
Peak Ong নামের ওই কর্মী ২০১৪ সাল থেকে Aberystwyth University-এ পার্ট-টাইম ক্লিনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিনের এই কর্মজীবনে হঠাৎই একটি ছোট ঘটনা বড় আকার নেয়, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে রাইস কুকার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, Peak Ong নিয়ম ভেঙে এক শিক্ষার্থীকে রাইস কুকার কিনে দিয়েছেন, যা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার বিরুদ্ধে। তবে তিনি শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
এরপর বিষয়টি শৃঙ্খলাজনিত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি তার দুর্ভোগ। নতুন চাকরির জন্য আবেদন করলে, তার সাবেক কর্মস্থল থেকে দেওয়া রেফারেন্সে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। ফলে তিনি নতুন চাকরির সুযোগও হারান।
নিজের প্রতি হওয়া এই আচরণকে অন্যায় মনে করে Peak Ong আইনের দ্বারস্থ হন এবং এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় দেয় যে, তাকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
আদালত আরও জানায়, যদি তার বিরুদ্ধে এমন অন্যায্য পদক্ষেপ নেওয়া না হতো, তাহলে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে ভবিষ্যতে নিয়মিত আয় করতে পারতেন। এই সম্ভাব্য আয়ের ক্ষতিকে বিবেচনায় নিয়ে তাকে মোট £২৬৪ হাজারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একটি ছোট বিষয়—রাইস কুকার—থেকে শুরু হয়ে আদালতের রায়ে শেষ হওয়া এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, সঠিক প্রক্রিয়া এবং মানবিক আচরণের গুরুত্ব আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
