লন্ডনে আওয়ামীলীগের বিশাল সমাবেশে ।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরের মাথায় সর্ববৃহৎ সমাবেশ
লন্ডন, ১৫ সেপ্টেম্বর: ১৫ সেপ্টেম্বর, সোমবার লন্ডনের ঐতিহাসিক ট্রাফালগার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে র্যালি ফর বাংলাদেশ।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দু:শাসন , মব সন্ত্রাস , মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং এই সরকারের পদত্যাগের দাবীতে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশী ডায়াসপারা ইন ইউকে এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দিয়ে ,যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে কয়েক হাজার মানুষ এসে সমবেত হয়েছিলেন লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে । তিনশত ,চারশত মাইল দূরের শহর থেকে ও বাস ভর্তি হয়ে মানুষ এসে সমাবেশে যোগ দেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ র্যালীতে যোগ দিয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে এমন কি ,লন্ডনের বিভিন্ন সংগঠনের মিছিল যখন রাস্তা ধরে এগোচ্ছিল, বুঝার ক্ষমতা ছিল না এটা ঢাকার রাজপথ না লন্ডন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে লন্ডনে বাংলাদেশীদের সর্বোচ্চ জনসমাবেশ ছিল এই র্যালি ফর বাংলাদেশ।র্যালী পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী আব্দুর রহমান, হুইপ , সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ সপন এমপি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি , সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহির এমপি, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপি,হাবিবুর রহমান হাবিব এমপি, এডভোকেট রনজিত সরকার এমপি প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ মুজাম্মেল আলী , শাহ আজিজুর রহমান, জনাব হরমুজ আলী , নইমুদ্দিন রিয়াজ , মারুফ চৌধুরী ও আব্দুল আহাদ চৌধুরীর প্রমূখ।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ যুবলীগ ,ছাত্রলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা এই সমাবেশে যোগ দেন। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেয়া সাবেক এম পি, মন্ত্রী , স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও এই র্যালীতে অংশ নেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ,সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, আজকের এই সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ছাড়াও হাজার হাজার প্রবাসী এসে এই ডাকে সমেবত হয়েছেন । বাংলাদেশে আজ মানবাধিকার বলতে কোন কিছু নেই। বাকস্বাধীনতা বলতে কিছু নেই, মবের নামে দিনে দুপুরে মানুষ হত্যার প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে ।পুরো বাংলাদেশ একটি অঘোষিত জেলখানায় পরিণত করেছে এই সরকার । আমরা যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগের দাবীতে আজ এখানে সমবেত হয়েছি। যুক্তরাজ্য সহ বিশ্বকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির বার্তা দিতে এখানে সমবেত হয়েছি।
উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে ৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্বীকৃতির দাবীতে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সমাবেশ “রিকোগনাইজ বাংলাদেশ র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছিল । সেদিন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ এসে সেখানে যোগ দিয়েছিল এবং যুক্তরাজ্যের মূল ধারার গণমাধ্যম সহ বিশ্বের নানা গণমাধ্যমে সেই সমাবেশ প্রচার প্রচারণা পেয়েছিল এবং বিশ্বজনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশী ডায়াসপারা ইন ইউকে এই র্যালীর মাধ্যমে স্বাধীনতার ৫৪ বছরের মাথায় আবার প্রমাণ করলো সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ এবং প্রমাণ করলো প্রবাসী বাংগালীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আছেন ১৯৭১ সালের মতোই।
আর ট্রাফাগার স্কয়ার যুক্তরাজ্যের আন্দোলন সংগ্রাম বা সমাবেশের জন্য ঐতিহাসিক একটি স্থান হিসাবে বিবেচিত হয়।
